মুজিববর্ষে আমাদের পদার্পণ ও করণীয়

ইতিহাসের মহানায়কে পরিণত হওয়ার পথে যে মানুষটি কোনকালেই গণমানুষের সান্নিধ্য থেকে সরে যায়নি তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । তাইতো শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মুজিব বর্ষে সকলকে মানবিক হতে আহ্বান জানান (তথ্যসূত্র:)  

আপনি কেন মানবিক হবেন ? কেননা প্রতিযুগে মহামানব জন্মায় না । বিগত একশত বছরে একটি নামও কি উচ্ছারণ করা যায় বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া । যে মানুষটির কারণে আপনি আমার ডিজিটাল লিখা পড়ছেন তাঁর অমর-গাঁথার মূলমন্ত্রই ছিলো মানবতা । অতএব যদি শান্তির স্বপ্নে আবর্তিত হয়ে উন্নয়নের কাতারে শামিল হতে চান, মানবতাই একমাত্র কর্মশক্তি ।
১৭ই মার্চ, ১৯২০ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপড়ায় জন্ম নেওয়া জাতির জনক নিজের বয়ানেই নিজের ছেলেবেলাকে দুষ্ট-মিষ্টি বলে আখ্যায়িত করেছিলেন (তথ্যসূত্র )

তবে সেইসাথে তিনি ছিলেন রাজনীতিমনস্ক । এ কে ফজলুল হক আর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে তরূণ মুজিব রাজনীতির মঞ্চে আগমন করে একটা বাক্যই স্পষ্ট করেছিলেন যে পৃষ্ঠপ্রদর্শণ-প্রবণতা তাঁর রক্তধারায় নাই । কারাবাসকে সঙ্গী করেছিলেন আপাদমস্তক আর জন্ম দিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ । অতএব বাংলাদেশ নামক মানচিত্র আর বঙ্গবন্ধু এখন সমার্থক ।
অর্থনৈতিক খাতের সাথে সাথে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তাঁর দেসবাসীর নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করা । একেই তিনি শোষিতের গণতন্ত্র ও শোষণমুক্ত সমাজ দাবি করেছিলেন । কিন্তু সেইসাথে এটাও অনস্বীকার্য জাতিগতভাবে আমরা আরামপ্রিয় । অতএব বর্তমান প্রযুক্তি উৎকর্ষতা আমাদের আরো কর্মবিমুখ করবে কিনা তা বিবেচনা করার আগে, এর বিকল্প চিন্তা করা জরুরী । রাষ্ট্র ও মানুষের কল্যাণে তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ এক যুগোপযোগী পদক্ষেপ ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বর্তমানে বিরাট এক পরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে উন্নয়নের মিছিলে শামিল করেছে । “একটি উন্নত দেশ,সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ,একটি ডিজিটাল যুগের জনগোষ্ঠী,রূপান্তরিত উৎপাদনব্যবস্থা,নতুন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি” এই ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ । তবে এক্ষেত্রে সফলতা নির্ভর করে জনমানুষের সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ । এখন আমরা লাইনে না দাঁড়িয়ে যেমন বিদ্যুতবিল দিই, একইভাবে শিক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ অনলাইনে করতে পারি । একইভাবে রান্নাঘরের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে হাতে-বানানো পিঠা-পুলিও আজ অনলাইন সেবায় যুক্ত । জীবনকে সহজ করার এই ডিজিটাল পদ্ধতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সময়ের সদ্ব্যবহার আর জীবনকে সহজ করে তোলা ।
তাই বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের লক্ষ্য হোক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, সময়ের অপব্যবহার রোধ, এবং প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলা । মান্ধাতার আমলের পণ্য মজুতকরণ প্রথা বাদ দিয়ে, দ্রুত ও কার্যকরী পণ্য ব্যবস্থাপনায় অভ্যস্ত হওয়া । প্রতারিত না হয়ে বা না করে সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের বৈশ্বিক সেবায় যুক্ত হওয়া । এতে যতটা না নিজে মানবিক হবো, তারচেয়েও বেশী মানবতা রক্ষা হবে নিশ্চিত । এটাই হবে জাতির পিতার নিকট আমাদের জাতীয় সম্মান প্রদর্শণ । ধন্যবাদ ।

তথ্য সংকলন-
মোঃ রায়হানুল মিজান
কন্টেন্ট রাইটার
রসুই বাংলাদেশ


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

en_USEnglish