করোনা প্রতিরোধে করণীয় ----

হু-হু করে মাস্ক আর স্যানিটাইজারের দাম বাড়ছে বাজারে । সেইসাথে পাল্লা দিয়ে শংকা বাড়ছে মানুষের মনে । আইইডিসিআর সাম্প্রতিক ৩জন করোনা ভাইরাস আক্রান্তকারী সনাক্ত করেছে । তারপরই বাজারে ৩০ টাকার মাস্ক এখন ২০০ টাকায় ! এইসময়ের সবচেয়ে জরুরী বিষয় করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত স্বচ্ছ ধারণা ও প্রতিরোধ ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর ভাষ্যে সিওভিআইডি-১৯ (করোনা) আক্রান্ত অধিকাংশ লোক (৮০%) মৃত্যু বরণ করেনি । কিন্তু কতিপয়ের ক্ষেত্রে এই জীবাণু মারাত্মক পরিণতি ঘটাতে পারে । তাই জনসমাবেশ এড়িয়ে চলে কমপক্ষে ১মিটার বা ৩ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে । এতে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে ছড়িয়ে পড়া জলকণা থেকে নিরাপদ থাকা যায় । দৈনন্দিন চলাফেরায় মাস্ক ব্যবহারে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকা যায় । এছাড়াও হাতের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এলকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার, সাবান-পানি এবং গ্লাভস ব্যবহারের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । নিজে পরিষ্কার থাকুন এবং অপরকেও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে উৎসাহিত করুন ।
(তথ্যসূত্র-১)

মূলতঃ জ্বর, সর্দি বা হাঁচি-কাশি এবং মৃদ্যু শ্বাস-কষ্ট হলো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্মণ । সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন-সি ভীষণ দরকার । অতএব এক্ষেত্রে কমলা কিংবা লেবু যথেষ্ট উপকারী । কিন্তু জ্বর, সর্দি, মাথা-ব্যাথা শ্বাস-কষ্ট শুধু করোনা ভাইরাসের কারণেই হয় না, অন্য কোন কারণেও হতে পারে । তাই সঠিক শনাক্তকরণ জরুরী । এতে আপনি নিজে যেমন নিশ্চিত হলেন, আপনার পরিবার পরিজনকেও ঝুঁকিমুক্ত করলেন ।

এবার একটু খাবার-দাবার নিয়ে আলোচনা হউক । করোনা কি প্রাণীবাহিত জীবাণু ? এটা নিশ্চিত না হলেও আধা-সিদ্ধ ডিম না খাওয়াই ভালো । যাই খাবেন, ঠিকমতো সিদ্ধ ও রান্না করে খাবেন । অনলাইনে রান্না-করা খাবার অর্ডার না দিয়ে বরং সদাই-পাতি অর্ডার দিন । তারপর নিজের রসুই ঘরে নিজেই রান্না করুন । ইউএসডিএ এর মতে খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় শপিং, সংরক্ষণ, প্রস্তুতীকরণ, কন্ডিশনিং, রান্না, উচ্ছিষ্ট-ব্যবস্থাপণা, পুনঃহিমায়িতকরণ, এবং হিম সংরক্ষণ তালিকা তৈরি করা আবশ্যক । এ অবস্থায় কাঁচা-বাজারে না গিয়ে আপনার পণ্য অনলাইনে অর্ডার করা যায় নিমেষে । কাঁচা মাংস ৬২ডিগ্রী-৭৪ডিগ্রী সেলসিয়াসে রান্না করতে হবে । যতটুকু দরকার ততটুকুই রান্না করুন । আর খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ৩মিনিট আগে পরিবেশন করুন । খাওয়া শেষে বেচে যাওয়া খাবার ঠান্ডা করে, ফুড-কন্টেইনারে করে ফ্রিজে রেখে দিন । পুনরায় ব্যবহারের সময় গরম করতে ভূলবেন না আর ৪ দিনের মধ্যে খেয়ে নিবেন । (তথ্যসূত্র: ২)

যেহেতু যুগটাই ডিজিটাল, অনলাইন পণ্য বা আমদানীকৃত পণ্যে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কতটুকু ? আবারও বলছি, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশি থেকে এই ভাইরাস ছড়ায় । অনলাইনে শপিংকৃত পণ্যগুলো যেহেতু বিভিন্ন পরিবেশ এবং আবহাওয়ায় চলমান বা ভ্রাম্যমান, তাই এহেন ঝুঁকি নাই বললেই নয় । অতএব আপনার পণ্য ব্যবহারে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই করোনা প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকরী ।

সবশেষে প্রিয় পাঠক আপনাদের প্রতি অনুরোধ আতংকিত হবেন না । স্বাস্থ্য সচেতন হউন, ধূমপান করবেন না, অন্যের মাস্ক ব্যবহার করবেন না আর জ্বর-সর্দিতে এন্টিবায়োটিক খাবেন না । করোনা সন্দেহ না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্য-কেন্দ্র বা চিকিৎসা কেন্দ্রে ডাক্তারী পরামর্শ নিন । নিজে পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং অন্যকে সচেতন করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করুন। ধন্যবাদ ।

তথ্য সংকলন-
মোঃ রায়হানুল মিজান
কন্টেন্ট রাইটার
রসুই বাংলাদেশ


0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

en_USEnglish